সৌদি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে অগ্রযাত্রা: রপ্তানিকারক তরিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতা ও স্বপ্ন
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন মাত্রা যোগ করছেন তরুণ উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম। ভেজিটেবল, মশলা ও হোম টেক্সটাইল—এই তিন খাতে সফলভাবে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে তাঁর উদ্যোগ এখন আলোচনায়। স্থানীয়ভাবে পণ্য সংগ্রহ, মান নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি এবং সঠিক ব্যবসায়িক কৌশল—সব মিলিয়ে তরিকুল ইসলামের যাত্রা আজ দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ।
মেন্টর জাহিদ ভাইয়ের নির্দেশনায় রপ্তানি যাত্রা আরও সুসংগঠিত
তরিকুল ইসলামের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় সহায়কের নাম—জাহিদ ভাই। তিনি তরিকুল ভাইকে এই যাত্রার প্রতিটি ধাপে মেন্টর হিসেবে পথ দেখিয়ে আসছেন।
তরিকুল ইসলামের ভাষায়—
“জাহিদ ভাইকে কনসালটেন্ট বলা ঠিক নয়। উনি আমাদের শুধু পরামর্শ দেন না, বরং হাতে-কলমে শেখান। পণ্য মেইনটেইন, গায়ের ডিলারদের সাথে কমিউনিকেশন—সবকিছু তিনি নিজে গাইড করেন।”
এই সাপোর্টই তরিকুলকে আন্তর্জাতিক মার্কেটে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
সৌদি আরবে রপ্তানির মজবুত সংযোগ: রিয়াদে মুসা ভাইয়ের সঙ্গে বৈঠক
রপ্তানির সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সৌদি আরবের রিয়াদে তরিকুল ভাইয়ের ব্যবসায়িক সংযোগ। জাহিদ ভাইয়ের মাধ্যমেই তাঁর পরিচয় হয় আমিনুল ভাই এবং মুসা ভাইয়ের সঙ্গে। রিয়াদে অবস্থানরত মুসা ভাই দুই মাস আগে বাংলাদেশ সফরে এলে তরিকুল ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনা হয়।
তরিকুল ইসলাম বলেন—
“মুসা ভাই বাংলাদেশে এসে আমাদের সাথে সরাসরি বসেছিলেন। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই—সৌদি বাজারের জন্য গার্মেন্টস আইটেম রপ্তানিতে আরও বড় পরিসরে কাজ করবো।”
এই বৈঠকের পর গার্মেন্টস রপ্তানিতে নতুন গতি আসে।
গার্মেন্টস রপ্তানিতে বাস্তব অগ্রগতি—স্যাম্পল প্রেরণ ও অর্ডার নিশ্চিত
গার্মেন্টস সেগমেন্টে তরিকুল ইসলাম যেসব পণ্য রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন—
- লুঙ্গি
- গামছা
- স্যান্ডো গেঞ্জি
- মশারি
এসব পণ্যের স্যাম্পল ইতোমধ্যে রিয়াদে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সাড়া মিলেছে এবং অর্ডারও এসেছে।
তরিকুল ইসলাম বলেন—
“স্যাম্পল পাঠানোর পর ভালো রেসপন্স পেয়েছি। সামনে আরও বড় পরিমাণে গার্মেন্টস পাঠাতে চাই।”
মশলা রপ্তানিতে নতুন উদ্যোগ—“রিয়াদের উদ্দেশ্যে প্রথম চালান প্রস্তুত”
মশলা রপ্তানির ক্ষেত্রেও দৃঢ় পরিকল্পনা রয়েছে তরিকুলের। তিনি জানান—
“আমার সামনে যে মশলাগুলো আছে, এগুলো রিয়াদের জন্য রেডি করছি। ইনশাল্লাহ সামনে কয়েক দিনের মধ্যেই পাঠাতে পারব।”
বাংলাদেশি মশলার মান মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে জনপ্রিয় হওয়ায় এই সেক্টরকে তিনি সম্প্রসারণের অন্যতম সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
ভেজিটেবলে স্থায়ী রপ্তানি—বার্ষিক আয় ১–১.২ লাখ ডলার
ভেজিটেবল রপ্তানির ক্ষেত্রেও তরিকুল ইসলাম নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে তিনি মানসম্মত পণ্য সংগ্রহ করেন এবং তা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেন।
তরিকুল ভাইয়ের বার্ষিক আয়—
১,০০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ মার্কিন ডলার।
তাঁর ভাষায়—
“বেসিক্যালি ভেজিটেবল আর মশলা নিয়েই কাজ করি। রপ্তানির পরিমাণ বছরে ১ থেকে ১.২ লাখ ডলার।”
মালয়েশিয়া সফর—আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তব চিত্র উপলব্ধি
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পেতে তরিকুল ইসলাম মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন মার্কেট ভিজিট করেন এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি জানান—
“মালয়েশিয়ায় বড় বড় মার্কেট ঘুরেছি। যারা আগে থেকেই রপ্তানি করছেন, তাদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছি। এতে আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে ধারণা আরও শক্ত হয়েছে।”
বাংলাদেশের রপ্তানি কোয়ালিটি—চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
তরিকুল ইসলাম মনে করেন—বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডে কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণে আরও গুরুত্ব দেয়, তবে রপ্তানিতে বড় পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন—
“ভারত প্রতিটি আইটেমে আলাদা কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে। আমাদের সেই ফরম্যাট এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই রপ্তানিতে মেন্টর বা বিশেষজ্ঞের দিকনির্দেশনা খুব দরকার হয়।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—“আরও বড় পরিসরে রপ্তানি বৃদ্ধি করাই লক্ষ্য”
তরিকুল ইসলাম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন—
“ইনশাল্লাহ সামনে আমরা আরও বড় কাজ একসাথে করতে পারবো। বাংলাদেশের পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে চাই।”
তিনি বিশ্বাস করেন—যৌথ প্রচেষ্টা এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশি পণ্যের বিশ্ববাজারে অবস্থান আরও শক্ত হবে।
ভেজিটেবল থেকে শুরু করে মশলা, গার্মেন্টস—প্রতিটি সেক্টরেই তরিকুল ইসলামের রপ্তানির অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তারা চাইলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। মেন্টর জাহিদ ভাইয়ের নির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সমন্বয়ে তরিকুল ভাইয়ের এই যাত্রা দেশের রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রপ্তানি বাজারে তরিকুল ইসলামের মতো উদ্যোক্তাদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তরিকুল ভাই এর এক্সপোর্ট এর উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমন ও বায়ারের সাথে মিটিং এর কিছু অংশ